অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম

সম্পাদকীয় দল · সর্বশেষ আপডেট: জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং বাজার দ্রুত বাড়ছে, আর এই বৃদ্ধির হাত ধরে যাঁরা কনটেন্ট বানান, ট্রাফিক সামলান কিংবা নিজের একটা দর্শক গড়ে তুলেছেন—তাঁদের সামনে নতুন আয়ের দরজাও খুলছে। Krikya অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ঠিক তেমনই একটা সুযোগ, যেখানে পার্টনাররা অপারেটরের প্ল্যাটফর্মে নতুন খেলোয়াড় এনে কমিশন আয় করেন। এই পৃষ্ঠায় প্রোগ্রামটা আসলে কী, কমিশন কীভাবে কাজ করে, পার্টনার হওয়ার পথ কেমন, পেমেন্ট ও রিপোর্টিং কী রকম, আর একজন দায়িত্বশীল প্রোমোটার হিসেবে কী কী মাথায় রাখা দরকার—সবটা গুছিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

গোড়াতেই একটা বিষয় খোলাসা করে নেওয়া দরকার। এই পৃষ্ঠাটি Krikya অপারেটরের নিজস্ব পার্টনার প্রোগ্রামের একটা বিবরণমূলক গাইড। এখানে যে কমিশন ও সুবিধার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো Krikya তার অনুমোদিত অ্যাফিলিয়েটদের দিয়ে থাকে—অর্থাৎ অ্যাফিলিয়েটরা কমিশন পান Krikya থেকে, তাঁদের নিয়ে আসা খেলোয়াড়দের কার্যকলাপের ভিত্তিতে। প্রোগ্রামে অংশ নিতে হলে সরাসরি অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করে চুক্তি সম্পন্ন করতে হয়।

Krikya অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম কী

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে একটা পারফরম্যান্স-ভিত্তিক অংশীদারিত্বের মডেল। সহজ করে বললে—একজন পার্টনার তাঁর ওয়েবসাইট, ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, টেলিগ্রাম গ্রুপ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে Krikya প্ল্যাটফর্মের প্রচার চালান। এই প্রচারের জন্য তাঁকে একটা নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং লিংক দেওয়া হয়। কেউ যখন সেই লিংকে ক্লিক করে Krikya-তে অ্যাকাউন্ট খোলেন আর খেলা শুরু করেন, সিস্টেম তখন নিজে থেকেই চিহ্নিত করে ফেলে যে এই খেলোয়াড় ওই পার্টনারের মাধ্যমে এসেছেন। এর ভিত্তিতেই পার্টনার কমিশন পান।

Krikya নিজে একটা প্রতিষ্ঠিত অনলাইন গেমিং ব্র্যান্ড, যা ২০১৯ সাল থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এবং কুরাসাও (Antillephone N.V.) লাইসেন্সের অধীনে পরিচালিত হয়। প্ল্যাটফর্মে ১,৪০০-এর বেশি ক্যাসিনো গেম, লাইভ ক্যাসিনো, ক্র্যাশ গেম আর ক্রিকেট-কেন্দ্রিক একটা বিস্তৃত স্পোর্টসবুক রয়েছে। বাংলাদেশি দর্শকের কাছে এটা বাড়তি প্রাসঙ্গিক, কারণ এখানে bKash, Nagad, Rocket ও Upay-এর মতো স্থানীয় পেমেন্ট মেথড সমর্থিত এবং পুরো ইন্টারফেস বাংলা ভাষায় ব্যবহার করা যায়। এ কারণেই একজন অ্যাফিলিয়েটের পক্ষে এটা প্রচার করা তুলনামূলক সহজ—পণ্যটা স্থানীয় বাজারের চাহিদার সাথে মিলে যায়।

পার্টনারের চোখে এই মডেলের বড় আকর্ষণ হলো, শুরুতে বড় কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই এখানে নামা যায়। পার্টনারের আসল সম্পদ তাঁর দর্শক আর কনটেন্ট। যিনি যত ভালোভাবে প্রাসঙ্গিক ও আগ্রহী দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারেন, তাঁর আয়ের সম্ভাবনাও তত বেশি। প্রচারের ব্যানার, ল্যান্ডিং পেজ ও অন্যান্য উপকরণ সাধারণত অপারেটরের দিক থেকেই আসে, ফলে পার্টনারকে শূন্য থেকে সবকিছু গড়তে হয় না।

কমিশন স্ট্রাকচার

গেমিং অ্যাফিলিয়েট শিল্পে কমিশন সাধারণত কয়েকটা চেনা মডেলে দেওয়া হয়। Krikya অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামও এই প্রচলিত কাঠামোগুলোর ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক কমিশন (RevShare/CPA/hybrid মডেল) অফার করে। প্রতিটা মডেলের নিজস্ব যুক্তি ও উপযুক্ত পরিস্থিতি আছে, তাই কোনটা বেছে নেওয়া হবে সেটা নির্ভর করে পার্টনারের ট্রাফিকের ধরন আর কৌশলের ওপর।

RevShare (রেভিনিউ শেয়ার)

RevShare মডেলে পার্টনার তাঁর নিয়ে আসা খেলোয়াড়দের থেকে অপারেটরের যে নিট আয় হয়, তার একটা নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে পান। এখানকার মূল ভাবনাটা দীর্ঘমেয়াদী—নিয়ে আসা খেলোয়াড় যতদিন সক্রিয় থাকেন আর খেলতে থাকেন, ততদিন পার্টনারের আয়ও চলতে থাকে। যাঁদের হাতে অনুগত, দীর্ঘস্থায়ী দর্শক আছে, তাঁদের জন্য এই মডেল সময়ের সাথে জমতে থাকা আয়ের একটা স্থিতিশীল ধারা তৈরি করতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার, গেমিং একটা ওঠানামা করা খাত—কোনো মাসে অপারেটরের আয় বেশি হলে কমিশনও বাড়ে, কম হলে কমে।

CPA (কস্ট পার অ্যাকুইজিশন)

CPA মডেলে পার্টনার প্রতিটা যোগ্য নতুন খেলোয়াড়ের জন্য একটা নির্দিষ্ট এককালীন কমিশন পান। “যোগ্য” খেলোয়াড় বলতে সাধারণত এমন একজনকে বোঝায়, যিনি কেবল অ্যাকাউন্ট খোলেননি, বরং একটা নির্ধারিত ন্যূনতম ডিপোজিট করে সত্যিকারে খেলা শুরু করেছেন। যাঁরা বড় পরিমাণে নতুন ট্রাফিক আনতে পারেন এবং দ্রুত, আগেভাগে জানা আয় চান, তাঁদের কাছে CPA আকর্ষণীয়। এর সুবিধা হলো আয়টা অনুমানযোগ্য; তবে RevShare-এর মতো দীর্ঘমেয়াদী পুনরাবৃত্ত আয় এখানে মেলে না।

Hybrid (হাইব্রিড)

Hybrid মডেল RevShare আর CPA-এর মিশেল। এখানে পার্টনার প্রতিটা নতুন খেলোয়াড়ের জন্য একটা ছোট এককালীন CPA পান, পাশাপাশি ওই খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকলাপ থেকে একটা চলমান রেভিনিউ শেয়ারও অর্জন করেন। অভিজ্ঞ অনেক পার্টনারের কাছে এই মডেলটা ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়, কারণ এটা তাৎক্ষণিক নগদ প্রবাহ আর ভবিষ্যতের জমতে থাকা আয়—দুটোই একসাথে এনে দেয়।

কমিশনের নির্দিষ্ট হার ও শর্তাবলী পার্টনার ও অপারেটরের চুক্তির সময় ঠিক হয় এবং সাধারণত ট্রাফিকের পরিমাণ, গুণমান ও ভৌগোলিক উৎস ভেদে বদলাতে পারে। যাঁরা ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের, সক্রিয় খেলোয়াড় নিয়ে আসেন, তাঁদের জন্য উন্নত হার বা কাস্টমাইজড শর্ত নিয়ে আলোচনার জায়গাও থাকে। হালনাগাদ ও নির্ভুল কমিশন কাঠামো জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় সরাসরি Krikya অ্যাফিলিয়েট ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা।

মডেল আয়ের ধরন কার জন্য উপযুক্ত
RevShare চলমান, খেলোয়াড়ের আজীবন কার্যকলাপ-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী অনুগত দর্শক আছে যাঁদের
CPA এককালীন, প্রতি যোগ্য খেলোয়াড় বড় ভলিউম ও অনুমানযোগ্য আয় চান যাঁরা
Hybrid এককালীন + চলমান, মিশ্র ভারসাম্য চান এমন অভিজ্ঞ পার্টনাররা

অ্যাফিলিয়েট হওয়ার প্রক্রিয়া

Krikya-এর পার্টনার হওয়ার পথটা তুলনামূলক সরল, তবে কয়েকটা ধাপ পার হতে হয়। ধাপগুলো ভালোভাবে বুঝে এগোলে আবেদন অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ধাপ ১ — আবেদন জমা দেওয়া। প্রথম কাজ হলো Krikya অ্যাফিলিয়েট ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা। এর জন্য নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানা হলো [email protected], এবং মার্কেটিং-সংক্রান্ত বিষয়ে [email protected] ব্যবহার করা যায়। আবেদনের সময় সাধারণত প্রার্থীকে তার প্রচারের চ্যানেল (ওয়েবসাইট, চ্যানেল বা সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম), আনুমানিক ট্রাফিকের পরিমাণ এবং দর্শকের ধরন সম্পর্কে তথ্য দিতে হয়।

ধাপ ২ — পর্যালোচনা ও অনুমোদন। আবেদন জমা দেওয়ার পর অপারেটরের টিম তা পর্যালোচনা করে। এখানে মূলত দেখা হয় প্রার্থীর ট্রাফিকের উৎস বৈধ কি না, দর্শক প্রাসঙ্গিক কি না এবং প্রচারের পদ্ধতি প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। এই পর্যায়ে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে।

ধাপ ৩ — অ্যাকাউন্ট ও ট্র্যাকিং লিংক। অনুমোদনের পর পার্টনারকে একটি অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত ট্র্যাকিং লিংক দেওয়া হয়। এই লিংকের মধ্যেই একটি অনন্য শনাক্তকারী কোড থাকে, যা নিশ্চিত করে যে ওই লিংক দিয়ে আসা প্রতিটি খেলোয়াড় সঠিক পার্টনারের হিসাবে গণনা হচ্ছে। একই ধরনের রেফারেল কোড কীভাবে কাজ করে তা জানতে অ্যাফিলিয়েট কোড সম্পর্কে পৃষ্ঠাটি সহায়ক হতে পারে।

ধাপ ৪ — প্রচার শুরু। এবার পার্টনার তার কনটেন্টে ট্র্যাকিং লিংক ও প্রচারমূলক উপকরণ যুক্ত করে প্রচার শুরু করতে পারেন। অপারেটর সাধারণত ব্যানার, লোগো, ল্যান্ডিং পেজ ও প্রমোশনাল কনটেন্ট সরবরাহ করে, যা পার্টনারের কাজ সহজ করে। প্ল্যাটফর্মটি আসলে কেমন, তা নিজে যাচাই করে দেখতে পার্টনাররা Krikya মূল ওয়েবসাইট ঘুরে আসতে পারেন।

ধাপ ৫ — অপ্টিমাইজেশন। প্রচার শুরুর পর কাজ শেষ হয়ে যায় না। রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ড দেখে কোন কনটেন্ট বা চ্যানেল সবচেয়ে ভালো ফল দিচ্ছে তা বুঝে কৌশল সাজানোই একজন সফল পার্টনারের মূল দক্ষতা। যাঁরা নিয়মিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে নিজেদের প্রচার উন্নত করেন, দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের আয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ে।

অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিন

পেমেন্ট ও রিপোর্টিং

অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পার্টনারের আয় সরাসরি এই কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।

রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ড

অনুমোদিত পার্টনাররা একটা ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ডে ঢোকার সুযোগ পান, যেখানে রিয়েল-টাইমে নিজের পারফরম্যান্সের ওপর চোখ রাখা যায়। এখানে যেসব তথ্য সাধারণত থাকে তার মধ্যে পড়ে—কতগুলো ক্লিক হয়েছে, কতজন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাঁদের কতজন প্রথম ডিপোজিট করেছেন, আর সব মিলিয়ে কত কমিশন জমেছে। এই স্বচ্ছ পরিসংখ্যান পার্টনারকে ধরিয়ে দেয় কোন চেষ্টাটা ফল দিচ্ছে আর কোথায় হাত দেওয়া দরকার।

পেমেন্ট চক্র

গেমিং অ্যাফিলিয়েট শিল্পে কমিশন সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা হয়। প্রতি মাসের হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর জমা কমিশন একটা নির্দিষ্ট ন্যূনতম প্রান্তসীমা (থ্রেশহোল্ড) ছাড়ালে তা পার্টনারের নির্ধারিত পেমেন্ট মেথডে পাঠানো হয়। বাংলাদেশি পার্টনারদের জন্য স্থানীয় পেমেন্ট মেথডের সুবিধা প্ল্যাটফর্মের একটা বড় শক্তি, যা লেনদেনকে দ্রুত ও চেনা রাখে। সঠিক ন্যূনতম প্রান্তসীমা, পেমেন্টের তারিখ ও উপলব্ধ পদ্ধতি চুক্তির শর্তে লেখা থাকে এবং অ্যাফিলিয়েট টিমের সাথে আলোচনায় নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

সাপোর্ট ও যোগাযোগ

ভালো অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের একটা বড় লক্ষণ নির্ভরযোগ্য সাপোর্ট। Krikya-এর গ্রাহক সহায়তা লাইভ চ্যাট, ইমেইল ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে ২৪/৭ পাওয়া যায়। পার্টনারদের জন্য নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে [email protected] ব্যবহার করা যায়, আর সাম্প্রতিক প্রমোশন ও ঘোষণার খবর রাখতে অপারেটরের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল (@krikya88) ও X অ্যাকাউন্ট (@KRIKYA_OFFICIAL) কাজে লাগে। যাঁরা নিয়মিত ও বড় পরিসরে ট্রাফিক আনেন, তাঁদের অনেক সময় একজন ডেডিকেটেড অ্যাফিলিয়েট ম্যানেজারও দেওয়া হয়, যিনি কৌশল ও অপ্টিমাইজেশনে হাত মেলান।

অ্যাফিলিয়েট হওয়ার শর্ত ও প্রয়োজনীয়তা

চাইলেই যে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার্টনার হয়ে যান না—কিছু মৌলিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলো মূলত প্ল্যাটফর্ম ও পার্টনার, দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই।

এই প্রোগ্রাম পরিচালনাকারী দল ও তাদের সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের টিম সম্পর্কে পৃষ্ঠাটি দেখা যেতে পারে।

গেমিং অ্যাফিলিয়েট অংশীদারিত্বের সুবিধা ও বিবেচ্য বিষয়

আর দশটা আয়ের সুযোগের মতোই, গেমিং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়েরও ভালো দিক আছে, চ্যালেঞ্জও আছে। বাস্তবসম্মত একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে দুই দিকই মেপে দেখা দরকার।

সুবিধাসমূহ

বিবেচ্য বিষয় ও চ্যালেঞ্জ

সৎ প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করলে আর দীর্ঘমেয়াদের কথা মাথায় রাখলে এই চ্যালেঞ্জগুলো সামলে নেওয়া যায়।

সফল অ্যাফিলিয়েট হওয়ার কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ

এই খাতে যাঁরা নতুন, তাঁদের জন্য কয়েকটা মৌলিক কৌশল প্রথম থেকেই কাজে দিতে শুরু করে। সবার আগে আসে দর্শকের আস্থা—এটাই ভিত্তি। একজন পাঠক বা দর্শক যখন বুঝতে পারেন কনটেন্ট নির্মাতা সৎভাবে ভালো-মন্দ দুটো দিকই বলছেন, তখনই তিনি সুপারিশে ভরসা রাখেন। কেবল ভালো দিকগুলো ফুলিয়ে বলা কনটেন্ট স্বল্পমেয়াদে হয়তো ক্লিক টানে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্যতা খুইয়ে ফেলে।

এরপর আসে স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা কাজে লাগানোর কথা। বাংলাদেশি দর্শকের কাছে bKash বা Nagad দিয়ে ডিপোজিটের ব্যবহারিক গাইড, বাংলা ভাষায় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার কিংবা BPL-এর মতো স্থানীয় ক্রিকেট আসরকে ঘিরে গড়া কনটেন্ট সাধারণ বিশ্বজোড়া কনটেন্টের চেয়ে অনেক বেশি সাড়া ফেলে। যিনি নিজের দর্শকের ভাষা ও আগ্রহটা ভালো বোঝেন, প্রচারেও তিনিই সবচেয়ে কার্যকর।

তৃতীয় যে জিনিসটা জরুরি—তথ্য ও পরিসংখ্যানের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ডে নিয়মিত চোখ রাখলে বোঝা যায় কোন ধরনের কনটেন্ট, কোন চ্যানেল বা কোন সময়ের প্রচার সবচেয়ে ভালো ফল দিচ্ছে। এই তথ্য কাজে লাগিয়ে ধাপে ধাপে প্রচার কৌশল ঘষামাজা করলে আয় ক্রমশ বাড়ে। আর সবশেষে থাকে ধৈর্য—ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকাটাই টেকসই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

দায়িত্বশীল প্রোমোশন (18+/RG)

গেমিং কনটেন্ট প্রচারের সাথে একটা নৈতিক দায়িত্বও জড়িয়ে থাকে, যেটা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। Krikya অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত প্রতিটা পার্টনারের কাছ থেকে দায়িত্বশীল প্রচারই প্রত্যাশিত।

এখানে সবচেয়ে মৌলিক নিয়মটা হলো—সব প্রচার কেবল প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার বেশি) দর্শকদের লক্ষ্য করে করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নাবালকদের উদ্দেশ্য করে বা তাদের টানতে পারে এমন কনটেন্ট বানানো যাবে না। এর সাথে আরেকটা কথা—প্রচারে গেমিংকে আয়ের নিশ্চিত উৎস বা আর্থিক সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখানো চলবে না। গেমিং আসলে বিনোদনের একটা মাধ্যম, যেখানে অর্থ হারানোর ঝুঁকি সবসময় থাকে—এই বার্তাটা সততার সাথে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই একজন দায়িত্বশীল পার্টনারের কাজ।

ভালো চর্চা হিসেবে পার্টনারদের উচিত কনটেন্টে দায়িত্বশীল গেমিং নিয়ে কিছু বার্তা রাখা—যেমন নিজের সামর্থ্যের বাইরে না খেলা, একটা সীমা ঠিক করে নেওয়া আর দরকার হলে বিরতি নেওয়া। যাঁরা গেমিং নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য প্ল্যাটফর্মে স্ব-নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম (ডিপোজিট লিমিট, সেলফ-এক্সক্লুশন) থাকে; সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়াটাও প্রচারের একটা গঠনমূলক অংশ হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নৈতিকভাবে সঠিক তো বটেই, দীর্ঘমেয়াদে পার্টনারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সুনামও গড়ে তোলে—যা টেকসই আয়ের ভিত্তি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অ্যাফিলিয়েট হতে কী প্রয়োজন?

অ্যাফিলিয়েট হতে হলে প্রার্থীকে প্রাপ্তবয়স্ক (১৮+) হতে হবে এবং একটি সক্রিয় প্রচারের চ্যানেল — যেমন ওয়েবসাইট, ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল, টেলিগ্রাম গ্রুপ বা সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি — থাকতে হবে, যেখানে প্রাসঙ্গিক দর্শক আছে। এরপর [email protected] ঠিকানায় যোগাযোগ করে আবেদন জমা দিতে হয়, যেখানে প্রচারের চ্যানেল ও ট্রাফিকের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। আবেদন পর্যালোচনার পর অনুমোদন পেলে পার্টনার তার ব্যক্তিগত ট্র্যাকিং লিংক ও অ্যাকাউন্ট পান এবং প্রচার শুরু করতে পারেন। ট্রাফিক অবশ্যই বৈধ ও প্রকৃত হতে হবে।

কমিশন কত ঘন ঘন পরিশোধ করা হয়?

গেমিং অ্যাফিলিয়েট শিল্পে কমিশন সাধারণত মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা হয়। প্রতি মাসের হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর, জমা হওয়া কমিশন একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম প্রান্তসীমা অতিক্রম করলে তা পার্টনারের নির্ধারিত পেমেন্ট মেথডে স্থানান্তর করা হয়। সঠিক পেমেন্ট চক্র, ন্যূনতম প্রান্তসীমা ও উপলব্ধ পদ্ধতি চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করে এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য সরাসরি Krikya অ্যাফিলিয়েট টিমের সাথে যোগাযোগ করা উত্তম।

রেজিস্টার করে ৳১৫,০০০ বোনাস নিন